জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত আট দফা দাবি জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়তে পারে। প্রয়োজনে এসব দাবি এক দফার আন্দোলনেও পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার ঢাকায় থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চে টাঙ্গাইলে একটি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে কর্মসূচিটি শুরু হয়। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস ও টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবির ভিত্তিতে কর্মসূচির দফা বাড়তে বা কমতে পারে। এমনকি প্রয়োজন হলে সব দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে। তিনি নেতা-কর্মীদের পরবর্তী কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসের পথসভায়ও তিনি আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, এক দফা হলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে—এমন পরিস্থিতির আগে সরকারকে সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি বিবেচনা করতে হবে।
যেসব দাবিতে লং মার্চ
১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট মোকাবিলা, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধের মতো বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও কর্মসূচির অংশ।
শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই লং মার্চ কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে নয়; জনগণের বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তিনি গ্যাস সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়েও কথা বলেন।
রংপুরমুখী লং মার্চ
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের আগে জানানো হয়েছিল, রাজধানী থেকে রংপুর পর্যন্ত পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে রংপুরে সমাবেশের পরিকল্পনাও ছিল।
টাঙ্গাইলের পথসভায় শফিকুর রহমান ছাড়াও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ছিলেন।
