বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) মহাকাশে উৎপাদন প্রযুক্তি, মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করেন এক্সপেডিশন ৭৫-এর সদস্যরা।

নাসার নভোচারী অনিল মেনন ‘মিয়োকা’ নামের সীসামুক্ত সোল্ডারিং পরীক্ষায় অংশ নেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতের সম্ভাবনা যাচাই করতে তিনি আইএসএসের হারমনি মডিউলে একটি সার্কিট বোর্ডে সোল্ডারিং করেন। পরীক্ষার নমুনা পরে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে ভূমিতে তৈরি একই ধরনের নমুনার সঙ্গে তুলনা করা হবে।

এই গবেষণার ফল সফল হলে ভবিষ্যতে মহাকাশে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ মেরামত ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে পৃথিবী থেকে অতিরিক্ত সরঞ্জাম পাঠানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

মেনন একই সঙ্গে রসকসমসের নভোচারী পিয়োত্র দুব্রভ ও আন্না কিকিনার সঙ্গে কম্পিউটারভিত্তিক শ্রবণ পরীক্ষা করেন। মহাকাশ স্টেশনের পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে শ্রবণশক্তিতে কোনো পরিবর্তন হয় কি না, তা যাচাই করাই এ পরীক্ষার উদ্দেশ্য।

এদিকে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) নভোচারী সোফি আদেনট কলম্বাস ল্যাবরেটরিতে ‘কুবিক’ গবেষণা ইনকিউবেটর ও সেন্ট্রিফিউজের প্রস্তুতি নেন। এগুলো পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রণ করে গবেষকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন।

আদেনট মানব গবেষণার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামও পুনরায় প্রস্তুত করেন। পরে নতুন ইউরোপিয়ান এনহ্যান্সড এক্সপ্লোরেশন এক্সারসাইজ ডিভাইস (E4D) ব্যবহার করে ব্যায়াম করেন। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে এই যন্ত্র কতটা কার্যকর হতে পারে, তা মূল্যায়ন করছেন গবেষকেরা।

আইএসএসের কমান্ডার জেসিকা মেয়ার এবং নভোচারী জ্যাক হ্যাথাওয়ে মূলত গবেষণাগারের সরঞ্জাম ও জীবনধারণ ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করেন। মেয়ার হারমনি মডিউলে অতিরিক্ত জায়গা তৈরির জন্য সরঞ্জাম গোছানোর কাজ করেন, যাতে পরবর্তী সময়ে নাসার স্পেসএক্স ক্রু-১৩ মিশনের সদস্যদের আগমন সহজ হয়।

হ্যাথাওয়ে কিবো ল্যাবরেটরিতে উদ্ভিদ গবেষণার সরঞ্জাম সরিয়ে জৈবিক ইনকিউবেটর স্থাপন করেন। পাশাপাশি আইএসএসের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তরল নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব নমুনা পৃথিবীতে এনে ক্ষয়কারী রাসায়নিক ও জীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে।

রসকসমসের নভোচারী দুব্রভ ও কিকিনা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি-ভিত্তিক পরীক্ষাতেও অংশ নেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে শরীরের ভারসাম্য ও দিকনির্ণয়ের অনুভূতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা বোঝার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই গবেষণা চলছে।

কিকিনা পরে অ্যান্ড্রে ফেদায়েভের সঙ্গে এমন একটি বিশেষ স্যুটের পরীক্ষা করেন, যা মহাকাশে শরীরের তরল মাথার দিকে সরে যাওয়ার প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ভ্রমণের পর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে ফিরে আসার সময় শরীরের অভিযোজন সহজ করাই এ প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য।

এ ছাড়া ফেদায়েভ আইএসএসের স্বয়ংক্রিয় আর্থ-ইমেজিং সরঞ্জাম সক্রিয় করেন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার পাহাড়, হ্রদ ও মরুভূমির ছবি তোলা হয়।

Source: NASA.gov

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version