সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকার বা যোগ্যতা নেই—এমন ব্যক্তি বা কর্মকর্তার অফিস কক্ষে চেয়ার কিংবা সোফার পেছনে খুঁটিতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের বিষয়টি নজরে আসার পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অধীন দপ্তর, সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অফিস কক্ষে পতাকা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী না হয়েও নিজ নিজ অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন।
এ ছাড়া কিছু অফিসে জাতীয় পতাকা সার্বক্ষণিকভাবে ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করার কারণে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
কখন জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যাবে?
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ছাড়া জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়সীমার বিধান রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকার নির্ধারিত আকার, অনুপাত ও রঙ বজায় না রেখে অফিস কক্ষের অভ্যন্তরে সজ্জা, অলংকরণ কিংবা ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতে, এ ধরনের ব্যবহার বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় নির্দেশনা
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অধীন দপ্তর, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় পতাকা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। তাই সরকারি দপ্তরসহ সব ক্ষেত্রে পতাকা প্রদর্শনের নিয়ম মেনে চলা এবং এর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি।
