images 5

দৈনিক রিপোর্ট ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব বড় রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং দুই দেশের বাস্তব কৌশলগত স্বার্থ কতটা সমন্বিত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে—এমন মূল্যায়ন উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে ইসরায়েলের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করে, তাহলে দুটি ভিন্ন কূটনৈতিক লক্ষ্যকে একসঙ্গে চাপিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে প্রত্যাশিত লাভের পরিবর্তে ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক পথ নিশ্চিত হওয়ার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়। অনেকের কাছে এটি দর-কষাকষির কৌশল মনে হলেও, সৌদি নেতৃত্বের ধারাবাহিক অবস্থান থেকে বোঝা যায় এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতির অংশ।

বিশ্লেষণে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সেই উদ্যোগে দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের সরে আসা এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গাজা যুদ্ধের পরও সৌদি কর্মকর্তারা একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান অর্থনৈতিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির মাধ্যমে সৌদি আরবের বৈদেশিক নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারও সেই পরিবর্তনের অংশ। তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশটির নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়; এটি প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই চুক্তিকে অন্য রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে যুক্ত করলে সহযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব আগের মতো নেই। তাই মিত্র দেশগুলোর ওপর কঠোর শর্ত আরোপের পরিবর্তে তাদের কৌশলগত বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধের পর আরব বিশ্বে ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমত আরও সংবেদনশীল হয়েছে। ফলে এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে নেওয়া কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য রাজনৈতিকভাবে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরব ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না। তবে তাদের অবস্থান হলো—প্রথমে ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাস্তব অগ্রগতি, এরপর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া।

বিশ্লেষকদের অভিমত, দীর্ঘ আট দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে টিকে আছে। ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক শক্তিশালী রাখতে বাস্তববাদী কূটনীতি, আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং উভয় দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version