image 316742 1786197239

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রিপোর্ট

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় যুবদলের এক নেতাকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার নিহত আজাদ হোসেনের বোন লাভলী বেগম কবিরহাট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় দুজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কবিরহাট পৌরসভার দক্ষিণ ঘোষবাগ এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে আজাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁর গলায় দড়ি প্যাঁচানো এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি আজাদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরদিন বিকেলে স্থানীয়রা ডোবায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাঁর দুই চাচাতো ভাই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ ডোবায় ফেলে রেখে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে দাবি পরিবারের।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভাষ্য, নিহত আজাদ হোসেন স্থানীয়ভাবে ব্যবসার পাশাপাশি যুবদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে কাজ করতেন। অতীতেও তিনি কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের কাউকেই এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

কবিরহাট থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version