মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা কমাতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলনের শেষে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সদস্য দেশগুলো সর্বসম্মতভাবে একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করে।
ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বেসামরিক অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ব্রিকস নেতারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাব পুরো বিশ্বেই পড়ছে। তাই সংঘাত আরও বাড়তে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে জোটটি।
গাজায় অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র কার্যক্রমে সমর্থন এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষে অবস্থানও জানানো হয়েছে।
যৌথ ঘোষণায় পশ্চিমা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করা হয়েছে।
সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে এবং এতে সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা গুরুত্ব পায়।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ নৌচলাচল ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে ব্রিকসে সদস্য দেশ বাড়ার পর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও জোটটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বৈশ্বিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থানে ভিন্নতা রয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকসকে ‘আমেরিকাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সদস্য দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ফলে আয়োজক দেশ ভারতকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হচ্ছে।

