কাশ্মীর হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার রাতভর কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) সংলগ্ন এলাকায় ভারতের চারটি রাফাল যুদ্ধবিমানকে পিছু হটাতে বাধ্য করার দাবি করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের আশঙ্কা, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারত সরাসরি হামলা চালাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দেশটি নিজেদের আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে বুধবার ভারত পাকিস্তানের জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আগ বাড়িয়ে কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেবে না। তবে কোনো উসকানি এলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ এর আগের দিনও সিনেটে তিনি একই ধরনের বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)–এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলী খান। তারা ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এবং পাল্টা অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। নয়াদিল্লি দাবি করেছে, হামলায় জড়িতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং এ হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে ইসলামাবাদ এসব অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘যেখানে হামলা হয়েছে, তা ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অনেক গভীরে। সবচেয়ে কাছের পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত শহর বাঘও অনেক দূরে অবস্থিত। ফলে এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
পেহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে ইসহাক দার বলেন, ‘ভারতের তৈরি করা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং উসকানিমূলক পরিবেশ পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’